August 9, 2026, 8:37 am

রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনই সমাধান

রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনই সমাধান

ডিএন২৪ ডেস্কঃ রোহিঙ্গা সমস্যার কারণে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে স্বেচ্ছায় তাদের নিজভূমি রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র সমাধান।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই সংকট কেবল বাংলাদেশে নয়, এর বাইরেও অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার বিকেলে এখানে বাকু কংগ্রেস সেন্টারে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে সমসাময়িক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত ও পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিশ্চিতে ‘বান্দুং নীতিমালা’ সমুন্নত রাখা বিষয়ে এক সাধারণ আলোচনায় ভাষণে একথা বলেন।

আর্থ-সামাজিক সাফল্য সত্ত্বেও বাংলাদেশ বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকট এই দু’টি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট একটি রাজনৈতিক সংকট এবং এর মূল গভীরভাবে মিয়ানমারে প্রোথিত। তাই এর সমাধানও মিয়ানমারের অভ্যন্তরেই খুঁজতে হবে।’

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সংকট কেবল বাংলাদেশে নয়, এর বাইরেও অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছি। এটির আমাদের দেশ এবং এর বাইরেও অস্থিতিশীলতা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করছি।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় এক কোটির বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে ভারত আশ্রয় দেওয়ার কথা স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যার পর বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় তিনি এবং তার ছোটবোন শেখ রেহানাকে ছয় বছর নির্বাসনে কাটাতে হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দায় খুবই নগণ্য হওয়া সত্ত্বেও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবে প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোকে তাই অবশ্যই জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানাতে হবে।

শেখ হাসিনা শান্তি বজায় রাখতে ন্যামের কার্যকরি ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে জাতিসংঘ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা মোকাবেলায় দায়িত্ব পালন করে। তবে শান্তি রক্ষা, বজায় রাখা এবং সংহত করতে ন্যাম সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘যেকোনো অঞ্চলের যেকোনো দেশকে রক্ষায় শক্তি ও প্রভাব ব্যবহারে আমাদেরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নিরস্ত্রীকরণ ও পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ সম্পর্কে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি, নিরস্ত্রীকরণ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য একটি হাতিয়ার। বাংলাদেশ নিরস্ত্রীকরণের বিকাশে সবসময় সক্রিয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং এর শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের প্রতিও দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com